১০২ অধ্যায়: হার মানা ঠিক আছে

দ্রুতজগত পরিবর্তনের কাহিনি: গুরুর সহায়তায় উন্নতি ও ঐশ্বর্য অর্জন অত্যন্ত ধনী শূকর 2681শব্দ 2026-03-22 12:41:17

প্রতিযোগিতা আরম্ভ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনশ জন যোদ্ধা সবাই হাত তুলে রেখে দাঁড়িয়ে রয়েছেন একদিনের সময় উৎসর্গ করে লোইয়িনশুয়ে এই কচিকে জিনহুয়ার সঙ্গে শিকারের তুলনা দেখার জন্য। দর্শকসভায় কেউ লোইয়িনশুয়েকে জয়ী ভাবছে না বাস্তবিক দুজনের মধ্যে ব্যবধানটা খুব বড়। জিনহুয়া একা হয়তো শিকার করতে কষ্ট করে কিন্তু তার দেহের আকার ও গতিবেগ স্পষ্ট এবং জিনহুয়া একজন দ্বিতীয় স্তরের যোদ্ধা নারীদের মধ্যে মাঝারি স্তরের তুলনায় উঁচু ছোট বন্যপ্রাণী শিকার করতে সম্ভব কিন্তু লোইয়িনশুয়ের জন্য কোনো সম্ভাবনা নেই। শিকারের কথায় না গিয়ে সবাই তার ছোট দেহ নিয়ে ভয় পাচ্ছেন যে সে শিকার হয়ে যাবে সৌভাগ্যমতো কোনো মাংস খায় না এমন বন্যপ্রাণী হলে মজা করে খেলা করে দেয়া যেতে পারে। লোইয়িনশুয়ে সকলের দৃষ্টি গ্রহণ করে রাগে দুটি গাল ফুলিয়ে দৃঢ় সংকল্প নিল যে এই অজানা অভিজ্ঞতাহীন লোকগুলোকে দেখাবে। লোইয়িনশুয়ে প্রতিযোগিতার প্রস্তাব দিল না শুধু জিনহুয়ার চ্যালেঞ্জের জন্য তারপরেও সে তার মূল্য প্রমাণ করতে চেয়েছিল ভবিষ্যতে যদি দুর্যোগের কাহিনী সত্যিই ছড়িয়ে পড়ে সে যেহেতু গোত্রকে কল্যাণ এনেছে তাকে নিজে বলতে হবে না পরিষ্কার গোত্রের লোকেরা তখন মূলত বিশ্বাস করবে না। আর সে শিকারের প্রতিযোগিতা প্রস্তাব করেছিল সেটাও কোনো খালাসি নয় এই তিনশ জন যোদ্ধা বন্যশূকর শিকার করতে দেখার সময় সে ভাবছিল কীভাবে সবচেয়ে কম খরচে নিশ্চিতভাবে বন্যশূকর শিকার করা যায়। এই প্রতিযোগিতায় লোইয়িনশুয়ে প্রথমে বন্যশূকর শিকার করবে তারপর ছোট বন্যপ্রাণী। তার জানা মতে শিকারের পদ্ধতি প্রাণীর প্রকারভেদে ভিন্ন হয় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হল ফাঁদের পদ্ধতি আর ফাঁদও শ্রেণীবিভক্ত প্রধানত পদতাল ফাঁদ ঝুলিয়ে মারা ধরা শিং মৃত্যুর বৃক্ষ ঘোরা ঘর কাঠের বিড়াল খরগোশের ফাঁদ কাকের পেটা ইত্যাদি পদতাল ফাঁদ অনেক আকারের বন্যপ্রাণীতে প্রযোজ্য কিন্তু এখানে লোহার কোনো বস্তু নেই তাই অন্য উপকরণ দিয়ে তৈরি ফাঁদের শক্তি যথেষ্ট নয় এখানকার বন্যশূকর সাধারণ বন্যশূকরের চেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা অধিকতর আঘাতের শক্তি বেশি তাই কোনোভাবেই প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। অন্যান্য যেমন ঝুলিয়ে মারা ধরা শিং ইত্যাদি শুধু ছোট বন্যপ্রাণীতে প্রযোজ্য লোইয়িনশুয়ে চিন্তা ভাবনা করে এখন ব্যবহারযোগ্যও শুধু যমের কুপ্পি। মৃত্যুর বৃক্ষ হল একটি ল্যাভার বানানো একটা বিশাল কাঠ বা পাথরকে ঝুলিয়ে রাখা তারপর ট্রিগারে বন্যশূকরের পছন্দের খাবার রেখে ট্রিগার করা বিশাল কাঠ বা পাথর পড়বে বন্যশূকরের উপর পড়বে তারপরও চামড়া শক্ত মাংস সরু না হলে পঙ্গু হয়ে যাবে। কাজ শুরু করা। তবে কিছু লোককে সাহায্য নিতে হবে তবে এটা ধোকা নয় তো। জিনহুয়ার মতামত হলে তাকে লোক পাঠাতে বলুন। এই বিশাল ফাঁদ লোইয়িনশুয়ে একা সম্পূর্ণ করতে পারবে না। জাও অন্যরা পাশে লোইয়িনশুয়েকে দেখছিল সময় সীমিত এখন জিনহুয়া কাজ শুরু করেছে তার লক্ষ্য ছোট বন্যপ্রাণী ধরা সে দৃঢ়ভাবে লোইয়িনশুয়ে কিছু ধরতে পারবে না ধরতে পারলে সে জিতবে। এই বন্য এলাকায় বন্যশূকরের বাসা কারণ বন্যশূকর মিশ্রভোজী অন্য প্রাণীর সংখ্যা কম জিনহুয়া গুহাগুলো খুঁজে দেখবে যদি ভিতরে কয়েকটা ছোট প্রাণী বের হয়। জিনহুয়ার ক্ষতি হওয়া থেকে বাঁচাতে জাও পাঁচজন যোদ্ধাকে পিছনে পাঠিয়েছে কিন্তু শিকারের সময় শুধু জিনহুয়া নিজে হাত মারবে। লোইয়িনশুয়ে শুরু থেকে দ্বিপরীক্ষা করতে গিয়ে এখনও কাজ শুরু করেনি সকলেই অনুমান করছে এই মেয়েটা সরাসরি হার স্বীকার করবে। এমন সময় লোইয়িনশুয়ে নড়ে উঠল তাদের দিকে এগিয়ে আসছে। লোইয়িনশুয়ে হাসিমুখে জাওকে বলল কুইজাং আমাকে কয়েকজন লোক ধার দিন। জাও উপহাস করে বলল আরম্ভে তো বলা হয়েছিল একা শিকার করতে। এখন হার স্বীকার করতে চাইছ। হার স্বীকার করা সম্ভব নয়। লোইয়িনশুয়ে চোঁয়াত আমি শুধু কিছু জিনিস আনতে বলেছি শিকারের সময় তো আমারই হাত লাগবে। জাও লোইয়িনশুয়েকে উপহাস করলেও প্রত্যাখ্যান করেনি জিজ্ঞাসা করল তাহলে কতজন লোক। মানে বেশি লোক ধার দিতে পারবে। মূলত একজনের কথা লোইয়িনশুয়ে চোখ ঘুরিয়ে তৎক্ষণাৎ বলল চার পাঁচজনই যথেষ্ট। তাহলে তোমাকে পাঁচজন দিলাম বলে রাখি শুধু জিনিস আনতে সাহায্য করবে শিকারের সময় নিজে করবে। জাও বলে জনতা থেকে পাঁচজনকে নির্দেশ করল জাও ফু পিয়াও শিং লু জিয়াও তোমরা পাঁচজন তার সঙ্গে যাও দেখবে সে কী জিনিস নিয়ে আসে। পাঁচজন আদেশ মেনে বেরিয়ে লোইয়িনশুয়ের পিছনে এল। লোইয়িনশুয়ে লোক পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু করল প্রথমে যথেষ্ট বড় কাঠ বা পাথর খুঁজতে প্রথম পছন্দ কাঠ। লোইয়িনশুয়ে উপত্যকা ছাড়ল উঁচু গাছের বনের গভীরে গেল পিছনে পাঁচজন লোক লোইয়িনশুয়ে কী অদ্ভুত করছে সামনে পিছনে দেখছে অনুমান করছে লোইয়িনশুয়ে কী করতে চায়। লোইয়িনশুয়ে প্রায় আধঘণ্টা চলার পর একটা বিশাল ফেনিক্স গাছের গোছা পেল। লোইয়িনশুয়ে হাসি দেখাল গাছের দিকে ইশারা করে বলল এই গাছটা কেটে আনো। পাঁচজন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে জাও জিজ্ঞাসা করল কেটে আনলে কী হবে। কেটে আনলে জানবে। লোইয়িনশুয়ে বেশি ব্যাখ্যা পছন্দ করে না সময় কম তোমরা প্রথমে কেটে নাও। তাহলে ঠিক আছে। তারা জাওর আদেশ পেয়েছে এটা সহজ শিকার নয় অস্বীকার করা যায় না। তারা এই ফেনিক্স গাছ কাটতে শুরু করল আধঘণ্টা কেটে গেল শেষে গাছ উপুড় হয়ে গেল। লোইয়িনশুয়ে দূরে থেকে দেখে গাছ পড়ার পর যায় কয়েকজনকে বলে শাখা পাতা সব কাটিয়ে ফেলতে মোটা গাছের ডগা তিন ভাগে ভাগ করতে বিভিন্ন রকম জিনিস আনতে আবার আধঘণ্টা লাগল এখন দুপুর হয়ে গেছে সূর্য ডোবা শুরু করেছে। কী জিনিস নিয়ে আসছে আধঘণ্টা পরেও কিছু নেই সময় চলে যাচ্ছে। জাও অন্যরা দূর থেকে দেখছে লোইয়িনশুয়ে আসা যাওয়া করছে একদিকে উৎকণ্ঠা একদিকে সন্দেহ। এই সময় জিনহুয়া বনের গভীর থেকে ছুটে এল হাতে একটা খরগোশ পিছনে পাঁচজন যোদ্ধার মধ্যে তিনজন দুটো করে খরগোশ নিয়ে। জিনহুয়া উৎসাহে বলল কুইজাং আমি সাতটা খরগোশ শিকার করেছি। এই সৌভাগ্যের জন্য সত্যিই একটা খরগোশের বাসা খুঁজে পেয়েছে ভিতরে সাতটা খরগোশ একসাথে ঘুমাচ্ছিল প্রায় কোনো পরিশ্রম ছাড়াই একপাত্রে ভরে নিয়েছে। এই সৌভাগ্য তো দারুণ। কোনো যোদ্ধা লোভ দেখাল এই শিকারের শিকারের ব্যাপার আলাদা যে একা শিকার করেছে তার থেকে তিন ভাগ শিকার জমা দিতে হবে বাকি সব নিজের। জিনহুয়া এখন সাতটা শিকার করেছে তাই সে পাঁচটা পাবে। পুরো গোত্র একদিন শিকার করতে এসেছে তার চেয়ে লাভজনক। কোনো যোদ্ধা বলল তাহলে আর কী আছে জিনহুয়া নিশ্চয় জিতেছে। জিনহুয়া সাতটা খরগোশ শিকার করেছে লোইয়িনশুয়ে শুরু করেনি শুরু থেকে এই জিনিস নিয়ে ব্যস্ত কিছু ধরেনি। লোইয়িনশুয়ে অবশ্যই হারবে। কিছু যোদ্ধা শিকারে যেতে তাড়াহুড়ো করছে জাওকে বলল তাহলে লোইয়িনশুয়ে সরাসরি হার স্বীকার করুক আমরা শিকার শুরু করি। হার স্বীকার করা সম্ভব নয়। লোইয়িনশুয়ে শেষে ফাঁদ পুরো করেছে এখন এসে একটু বিশ্রাম নেবে এমন কথা শুনে তাড়া করে বলল এখনো সকাল হয়েছে কী জরুরি। অপেক্ষা করো। তাড়া তাড়ি কিছু যোদ্ধা বলল তুমি শিকার করতে যাও এখানে ব্যস্ত থেকে সময় নষ্ট করছ আমাদের সময় নষ্ট করছ। বলার কিছু নেই লোইয়িনশুয়ে একদিন সকাল থেকে দুই হাত খালি এমনকি শিকারের জায়গাও খুঁজছে না শিকারের মন নেই। কিছু যোদ্ধা তাড়া করে বলল নাহ হার স্বীকার করো আমরা তোমাকে উপহাস করব না। জিনহুয়া লোইয়িনশুয়েকে বলল তুমি আর চেষ্টা করো না তুমি যা শিকার করতে পারো স্বীকার করে নাও আমি তোমাকে উপহাস করব না। শাস্তি তোমাকে হালকা করব। দুজনের দ্বিপরীক্ষার রং তো বলা হয়নি কিন্তু পেলিলি গোত্রে নিয়ম আছে রং তো কয়েকটা শক্ত লোকেরা যেটা পছন্দ করবে তাই নিতে হবে। সকলেই উত্তেজিত হয়ে উঠছে দেখে জাও একটা পাথরের খন্তন নিয়ে মাটিতে আঘাত করল সবাই চুপ করে গেল জাও বলল দ্বিপরীক্ষার কথা একদিন তাই একদিন অর্ধ মুহূর্তও কম নয়। সবাই অপেক্ষা করো।