প্রকাশের অনুভূতি
দশ বছর ধরে লিখছি, মনে পড়ে আগে যখন লিখতাম, তখন একরাশ উদ্দীপনা, আত্মবিশ্বাস আর উত্তেজনা থাকত লেখার মধ্যে। আজও সেই উত্তাপ হৃদয়ে বহমান, তবে বড় বড় কথা যেন কেবল নিজের মনেই রেখে দিই, আর কাউকে বলি না।
একটি বই ভালো না মন্দ, শেষমেশ তার বিচার হয় বাজারেই—পাঠক কিনবে কি না, সেটাই আসল। বই প্রকাশিত হওয়াটা যেন এক পরীক্ষার পাথর, যা বইয়ের গুণ ও অযোগ্যতা নির্ধারণ করে।
আমি কখনোই আশা করি না, প্রতিটি পাঠক এগিয়ে এসে সক্রিয়ভাবে বইটি কিনেই পড়বেন। তবু আমার অন্তরে একটাই আকাঙ্ক্ষা—নিজের সাধনা দিয়ে আরও বেশি পাঠককে আসল বই পড়ার অভ্যাসে উদ্বুদ্ধ করতে পারি।
লেখকের উদ্দীপনা কোথায়? লেখকের অনুপ্রেরণা কোথায়?
লেখার প্রতি নিজের ভালোবাসা ছাড়াও, এই অনুপ্রেরণার প্রধান উৎস পাঠকের সমর্থন। আসল বই পড়া, অর্থাৎ মূল্য দিয়ে বই পড়া, সন্দেহ নেই, লেখক এবং তার পেশার প্রতি স্বীকৃতি।
যতদিন স্বীকৃতি আর সমর্থন রয়েছে, লেখককে চরম দারিদ্র্য কিংবা অবজ্ঞার মুখে পড়তে হয় না, কিংবা বাইরে গিয়ে উচ্চকণ্ঠে বলতে ভয় পায় না—“আমি একজন লেখক।”
বাস্তব জীবনের মতোই, আমরা প্রত্যেকেই, আমাদের অবস্থান যাই হোক, পেশা যাই হোক, আমরা সুন্দর হই কিংবা সাধারণ, স্থূল হই কিংবা ছিপছিপে, ধনী-গরিব যাই হই না কেন, আমরা সকলেই চাই, সমাজ আমাদের সম্মান করুক।
লেখকও তাই চান—নিজের শ্রমের স্বীকৃতি ও সম্মান। হয়তো আপনারা জানেন না, যখন কোনো পাঠক বলেন, “আপনার লেখা আমি আর কখনো নকল কপি পড়ে সময় নষ্ট করব না, বরং নিয়মিত কিনে পড়ব”—এই কথাগুলো শুনে আমার মনে গভীর গর্বের সঞ্চার হয়।
আরও বেশি পাঠকের সমর্থন পাওয়া, আরও বেশি মানুষকে আসল বই পড়ায় উদ্বুদ্ধ করা, শুধু লেখকের জন্য নয়, গোটা সাহিত্য অঙ্গনের জন্যও এক আশীর্বাদ।
একটি ছোট্ট সমর্থনকে তুচ্ছ ভাববেন না। আপনার সামান্য উৎসাহ লেখকের কাছে বিশাল এক অনুপ্রেরণা।
এইরকম সমর্থন যত বাড়ে, তত বড় হয় সম্মিলিত শক্তি, তত বেশি সৃষ্টি হয় অনন্য সব বিস্ময়।
কয়েকদিন আগে দেশের শীর্ষ নেতা ফ্রান্স সফরে গিয়ে বলেছিলেন—“বৃহৎ বৃক্ষও জন্মায় ক্ষুদ্র অঙ্কুর থেকে; নয়তলা মিনারও তৈরি হয় একমুঠো মাটি দিয়ে।” এই ষোলোটি অক্ষরে গভীর সত্য লুকিয়ে আছে।
আপনাদের প্রতিটি সমর্থন বদলে দিতে পারে একজন লেখকের ভবিষ্যৎ, বদলে দিতে পারে শিল্পকে, এমনকি ইতিহাসকেও।
এপ্রিল মাসে আমার লক্ষ্য—অন্তত আশি অধ্যায় লেখা, চেষ্টা করব একশো কিংবা তারও বেশি অধ্যায় লিখতে। এ এক সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য, তাই আমাকে চাই আপনাদের সমর্থন, আপনাদের সাবস্ক্রিপশন, আপনাদের মাসিক ভোট।
এপ্রিল মাসে, আমরা সবাই একসাথে নতুন জাহাজে ভাসবো, একসাথে এগিয়ে যাব দূর গন্তব্যে!
আপনারা চাইলে ‘সৃষ্টি’ প্ল্যাটফর্মে ‘ত্রিলোকের শ্রেষ্ঠত্ব’ বইটি সমর্থন করতে পারেন, আবার চাইলে মোবাইল কিউকিউ অ্যাপে গিয়ে ‘ডাইনামিক-রিডিং-বুকসিটি-সার্চ’ অপশনে গিয়ে ‘ত্রিলোকের শ্রেষ্ঠত্ব’ খুঁজে বইটি কিনে পড়তে পারেন। এছাড়া কিউকিউ রিডিং অ্যাপ ডাউনলোড করেও সেখানে অগণিত বইয়ের মাঝে আমার বইটি খুঁজে পেতে পারেন এবং সমর্থন জানাতে পারেন।
আপনাদের পাশে চাই—চলুন আমরা একসাথে এগিয়ে যাই!